শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০১০

সঠিক তত্ত্বের ভিত্তিতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের গুণগত বিকাশ ঘটে

সঠিক তত্ত্ব চর্চা ও বাস্তব সংগ্রামে মধ্য দিয়ে সঠিক তত্ত্ব গড়ে উঠে। সঠিক তত্ত্ব মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্ব। মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্বের ভিত্তিতে একটি দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের গুণগত বিকাশ ঘটে। কেবল পরীক্ষিত বা প্রমানিত তত্ত্বের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একটি দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলন গুণগতভাবে বিকশিত হয়।
 
কমিউনিস্ট পার্টি শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লবী পার্টি। ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকশ্রেণীর প্রকৃত শ্রেণীসংগঠন। কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শ্রেণীসংগঠন ট্রেড ইউনিয়ন। বাঙলাদেশের অগ্রসর কমিউনিস্টদের প্রধান কাজ সঠিক কর্মসূচীর ভিত্তিতে শহরাঞ্চলে শিল্প কারখানায় বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলা। অগ্রসর কমিউনিস্টদের দ্বিতীয় কাজ সঠিক কর্মসূচীর ভিত্তিতে গ্রামাঞ্চলে বিপ্লবী ক্ষেতমজুর সংগ্রাম ও গরীব কৃষক সংগ্রাম গড়ে তোলা।

যেহেতু, বাঙলাদেশের সমাজ বিপ্লবের নেতা শ্রমিকশ্রেণী (শিল্প শ্রমিক) এবং প্রধান মিত্র গরীব কৃষক। সেহেতু, বাঙলাদেশের অগ্রসর কমিউনিস্টদের প্রধান কাজ সঠিক কর্মসূচীর ভিত্তিতে শহরাঞ্চলে বড় বড় শিল্প কারখানার (গার্মেন্টস শিল্পসহ বড় বড় শিল্প কারখানা) শ্রমিকশ্রেণীকে সংগঠিত করা। অগ্রসর কমিউনিস্টদের দ্বিতীয় কাজ সঠিক কর্মসূচীর ভিত্তিতে গ্রামাঞ্চলে ক্ষেতমজুর ও গরীব কৃষককে সংগঠিত করা। কেবল, উপরে উল্লেখিত পথগুলিই মার্কসবাদী-লেনিনবাদী পথ। কেবল উপরে উল্লেখিত পথগুলিই সঠিক পথ।

মার্কসবাদ-লেনিনবাদের তত্ত্বের মতে সঠিক কমিউনিস্ট রাজনীতি বিচিছন্ন ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রামের পথ সংস্কারবাদী পথ সুবিধাবাদী পথ। অপরদিকে শহরাঞ্চলে গার্মেন্টস শিল্প কারখানাসহ বড় বড় শিল্প কারখানায় বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম গড়ে তোলার চেষ্টা না করে গ্রামাঞ্চলে কৃষক সংগ্রাম বা কৃষক ঘাটি গড়ে তোলার পথ নৈরাজ্যবাদী পথ সুবিধাবাদী পথ। আর বিভিন্ন অজুহাতে গার্মেন্টস শিল্পসহ বড় বড় শিল্প কারখানা বাদ দিয়ে শহরাঞ্চলে ক্ষুদ্র শিল্প ও হস্ত শিল্পের শ্রমিকদের মধ্যে এবং ভাসমান শ্রমিকদের মধ্যে বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার চেষ্টাও সংস্কারবাদী পথ সুবিধাবাদী পথ।

আমাদের মতে বাঙলাদেশের অগ্রসর কমিউনিস্টদের কর্তব্য আরও গভীরভাবে আরও বেশী করে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মূল তত্ত্বগুলি চর্চা করা, অনুশীলন করা ও আত্তস্থ করা। অগ্রসর কমিউনিস্টদের কর্তব্য আরও গভীরভাবে আরও বেশী করে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মূল তত্ত্বের সঙ্গে সুপরিচিত হওয়া। প্রধানতঃ এই পথই বাঙলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সংকট উত্তরণের পথ। এই পথই বাঙলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিপ্লবী পুনর্গঠনের পথ কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুনর্জাগরণ ও পুনরুত্থানের পথ।

তারিখঃ ০৯.০৭.২০১০

ধর্মীয় মৌলবাদ উচ্ছেদের পথ ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম

বাঙলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ সক্রিয়। ধর্মীয় মৌলবাদের তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ধর্মের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবহার। ধর্মীয় মৌলবাদ এক অর্থে প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় মতবাদ। ধর্মীয়  সামপ্রদায়িকতা তার সাধারণ ভিত্তি। আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে অন্যের ধর্মের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করে নিজের ধর্মের লোকদের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করাই সামপ্রদায়িকতা।

বাঙলাদেশের সমাজ পুঁজিবাদী। যেখানে পুঁজিবাদী শোষণ থাকে মজুরী দাসত্ব থাকে সেখানে
ধর্মীয় মৌলবাদ কমবেশী ক্রিয়াশীল থাকে। ধর্মীয় মৌলবাদ সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্রের সৃষ্টি নয়। দারিদ্র, অনাহার, চিকিৎসা বঞ্চনা, অশিক্ষা ও কুসংস্কার থেকে ধর্মীয় মৌলবাদের সৃষ্টি হয়। দেশে অগ্রসর কমিউনিস্ট আন্দোলনের অনুপস্থিতিতে ধর্মীয় মৌলবাদ বৃদ্ধি পায়।

বাঙলাদেশে
ধর্মীয় মৌলবাদ উচেছদের পথ ভূমি ও শিল্পে ব্যক্তিমালিকানার উচ্ছেদ এবং ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা বাণিজ্য জাতীয়করণ বিশেষতঃ খাদ্য ব্যবসা জাতীয়করণ। দেশে কৃষিতে ব্যাপক যৌথ উৎপাদন প্রবর্তন। দেশের সকল নর নারীর চাকুরীর নিশ্চয়তা প্রদান এবং অফিসের বেতন সমান সমান করা।
ধর্মীয় মৌলবাদের দার্শনিক ভিত্তি পশ্চাদপদ ভাববাদ। এদের দার্শনিক মতবাদের মূল দিকটি প্রকৃতি, সমাজ ও মানবচিন্তার বিকাশের নিয়মকে অস্বীকার করা। দর্শনের বিকাশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সত্য ঐতিহাসিক বস্তুবাদ ও দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদকে অস্বীকার করা। শ্রেণীবিভক্ত সমাজে শ্রেণীসংগ্রামকে অস্বীকার করা।
ধর্মীয় মৌলবাদে রয়েছে তিনটি প্রতিক্রিয়াশীল অর্থনৈতিক, সামাজিক নীতি। মেহনতী জনগণের ন্যায়সঙ্গত স্বার্থকে বিরোধীতা করা, সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারীর সমান অধিকারকে বিরোধীতা করা এবং জাতিসমূহের জাতিসত্ত্বা বা জাতীয়তাকে বিরোধীতা করা।

পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি ব্যক্তিগত মালিকানা।
ধর্মীয় মৌলবাদ ব্যক্তিগত মালিকানায় বিশ্বাসী। ধর্মীয় মৌলবাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুঁজিবাদী। ধর্মীয় মৌলবাদ পুঁজিবাদ, তবে তা পশ্চাদপদ পুঁজিবাদ বা পশ্চাদপদ বুর্জোয়া-পেটিবুর্জোয়া। এই প্রতিক্রিয়াশীল মতবাদ ইহকালের তুলনায় পরকালের জীবনের উপর বেশী আস্থাবান।
ধর্মীয় মৌলবাদ পুঁজিবাদের অবিচ্ছিন্ন সহযাত্রী। ধর্মীয় মৌলবাদ সাম্রাজ্যবাদের সহযোগী। বাঙলাদেশে পুঁজিবাদের উচেছদ ছাড়া ধর্মীয় মৌলবাদের উচ্ছেদ সম্ভব নয়। বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার উচেছদ ছাড়া ধর্মীয় মৌলবাদ উচেছদ সম্ভব নয়। এক কথায় বাঙলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ উচেছদের মূল পথ পুঁজিবাদের উচ্ছেদ ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার উচ্ছেদ এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। একইসঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ উচ্ছেদের সংগ্রাম।

তারিখঃ ৩০.০৬.২০১০

বাঙলাদেশে নারী মুক্তির পথ ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম

বাঙলাদেশের সমাজ পুঁজিবাদী। এখানে নারীরা পুঁজিবাদী শোষণের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ বেশী শোষিত। যেখানে পুঁজিবাদী শোষণ থাকে বা মজুরী দাসত্ব থাকে সেখানে নারী নির্যাতন অনিবার্য। এমনকি এখানে গণিকাবৃত্তিও অনিবার্য। আরও মুনাফা আরও লাভের জন্য বুর্জোয়ারা নারীদের দেহব্যবসায় উৎসাহ যোগায়।

বাঙলাদেশের সমাজে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার সীমিত। অপরদিকে বাঙলাদেশের সমাজে সকল ক্ষেত্রে পুরুষেরা বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত। যেখানে পুঁজিবাদ, পুঁজিপতি ও বণিক থাকে সেখানে পুরুষের সঙ্গে নারীর সমতা প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। এমনকি আইনের ক্ষেত্রেও তা হতে পারে না। আইনের সমতার মানে জীবনের ক্ষেত্রে সমতা নয়।

বাঙলাদেশের পুঁজিবাদী সমাজে নারী মুক্তির মূল পথ ভূমি ও শিল্পে বাক্তিমালিকানার উচেছদ এবং ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা বাণিজ্য জাতীয়করণ। দেশে কৃষিতে ব্যাপক যৌথ উৎপাদনের প্রবর্তন। সারাদেশে ব্যাপক মেহনতী নারীকে যৌথ উৎপাদনে টেনে আনা। নারীকে তার অতি সাধারণ কাজের সাংসারিক বৃত্ত থেকে বাহিরে টেনে আনার জন্য বহুসংখ্যক সামাজিক ভোজনালয়, শিশু লালনাগার ও কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠা করা। এবং দেশের সকল নর নারী চাকুরীর নিশ্চয়তা প্রদান করা এবং অফিসারের বেতন ও শ্রমিকের বেতন সমান সমান করা।

বাঙলাদেশের পুজিবাদী সমাজে নারী মুক্তির মূল পথ ব্যাপক নারীকে মেহনতী নারীকে অগ্রসর কমিউনিস্ট রাজনীতির মধ্যে টেনে আনা। অগ্রসর কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে পরিচালিত ট্রেড ইউনিয়ন ও ক্ষেতমজুর ইউনিয়নে ব্যাপক মেহনতী নারীকে সক্রিয় করে তোলা। অগ্রসর কমিউনিস্ট রাজনীতিকে ব্যাপক মেহনতী নারীর আয়ত্ত্বাধীন করা।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ভিত্তি ব্যক্তিগত মালিকানা। পুঁজিবাদী সমাজে ব্যক্তিগত মালিকানার সঙ্গে আত্মদম্ভরিতা, পুরুষতন্ত্র ও প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় চেতনা বিশেষভাবে সম্পর্কিত।

পুঁজিবাদ উচেছদ ছাড়া নারী মুক্তি সম্ভব নয়। বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার উচেছদ ছাড়া নারী মুক্তি হতে পারে না। এক কথায় বাঙলাদেশের পুঁজিবাদী সমাজে নারী মুক্তির মূল পথ পুঁজিবাদের উচ্ছেদ ও সমাজতন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার উচেছদ এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। একই সঙ্গে নারী মুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ সমস্যা ধর্মীয় মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ উচ্ছেদের সংগ্রাম।

বাঙলাদেশে সমাজতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নারী মুক্তির প্রক্রিয়াকে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। তবে পরিপূর্ণ নারী মুক্তি অর্জিত হওয়া সম্ভব কেবল পরিপূর্ণ কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।

তারিখঃ ২৪.০৬.২০১০

বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম গড়ে তুলুন

বাঙলাদেশে চলমান গার্মেন্টস শ্রমিকদের সংগ্রাম মূলতঃ ন্যায়সঙ্গত ও প্রগতিশীল। এই সংগ্রাম একসঙ্গে দুটি বিষয়কে সুস্পষ্ট করে তুলেছে। একটি, গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপর গার্মেন্টস মালিকদের পুঁজিপতিদের এবং বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকারের শোষণ নির্যাতনের তীব্রতা। অপরটি, বাঙলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সংগ্রাম যথাযথ সংগঠিত করার প্রশ্নে কমিউনিস্ট নেতৃত্বের তত্ত্বগত দূর্বলতা।

বাঙলাদেশে গার্মেন্টস মালিকেরা পুঁজিপতিরা নিজেদের শ্রেণীস্বার্থে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। দেশীয় বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার গার্মেন্টস মালিকদেরই রাষ্ট্র ও সরকার। অপরদিকে একাধিক কারণে বাঙলাদেশে (১৯৪৭-২০১০) বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম বিকশিত ও শক্তিশালী নয়। সঠিক তত্ত্বে সজ্জিত একটি সঠিক কমিউনিস্ট পার্টির অনুপস্থিতিই এক্ষেত্রে প্রধান কারণ।

শিল্প কররখানায় ন্যায্য দাবী দাওয়া নিয়ে মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সংগ্রাম ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম। ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম মূলতঃ অর্থনৈতিক সংগ্রাম।

ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকশ্রেণীর প্রকৃত শ্রেণীসংগঠন। কমিউনিস্ট পার্টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণীসংগঠন ট্রেড ইউনিয়ন। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটনে ও সমাজতন বিনির্মাণে ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা অসাধারণ তাৎপর্যপূর্ণ। রাশিয়ায় অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠিত করার প্রক্রিয়ায় এবং বিপ্লব উত্তর সমাজতন বিনির্মানের প্রক্রিয়ায় তা প্রমানিত।

অগ্রসর কমিউনিস্টদের কর্তব্য মার্কস, এঙ্গেলস ও লেনিনের তত্ত্বের ভিত্তিতে বাঙলাদেশে বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম গড়ে তোলা। বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম অগ্রসর কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে পরিচালিত। বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম অগ্রসর কমিউনিস্ট রাজনীতির দ্বারা সজ্জিত ও শিক্ষাপ্রাপ্ত। বিপ্লবী ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম ও অগ্রসর কমিউনিস্ট রাজনৈতিক সংগ্রাম অবধারিতভাবে অবিচেছদ্য সংগ্রামে পরিণত হয় এবং প্রথমোক্ত সংগ্রাম দ্বিতীয়োক্ত সংগ্রামের অঙ্গীভুত হয়।

বাঙলাদেশে এখন ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রামের মূল কর্মসূচী সকল শিল্প কারখানা গার্মেন্টস শিল্প কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং সকল শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরী পনের হাজার টাকা নির্ধারণ করা। বাঙলাদেশে অগ্রসর কমিউনিস্ট রাজনৈতিক সংগ্রামের মূল কর্মসূচী পুঁজিবাদের উচেছদ ও সমাজতন প্রতিষ্ঠা করা। বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার উচেছদ এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

তারিখঃ ২৪.০৬.২০১০

মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০১০

পাকিস্তান আমলের দুই সংগ্রামঃ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম

যেহেতু, তত্ত্বগত বিচারে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল মূলতঃ প্রগতিশীল ও ন্যায়সঙ্গত। পাকিস্তান (১৯৪৭) ছিল একটি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র । পাকিস্তান ছিল রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন একটি বুর্জোয়া রাষ্ট্র, যাকিনা ছিল মূলতঃ বুর্জোয়া একনায়কত্বও। পাকিস্তানের (১৯৪৭-১৯৭৪১) সমাজের উৎপাদন পদ্ধতি ছিল পুঁজিবাদী। পাকিস্তানের শাসকশ্রেণী ছিল বুর্জোয়াশ্রেণী এবং সরকার ছিল বুর্জোয়া সরকার। পাকিস্তানের সমাজের বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ছিল প্রধানতঃ পরিসমাপ্ত।

সেহেতু, পাকিস্তানের সমাজের বিপ্লবের স্তর ছিল সমাজতান্ত্রিক। অপর কথায় পাকিস্তানের সমাজের বিপ্লবের শ্রেণীচরিত্র ছিল সমাজতান্ত্রিক। পাকিস্তানের সকল প্রদেশের শ্রমিকশ্রেণীর মেহনতী জনগণের এবং পূর্ববাঙলার শ্রমিকশ্রেণীর মেহনতী জনগণের প্রধান সংগ্রাম ছিল পুঁজিবাদের উচ্ছেদ ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। পকিস্তানের বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার উচ্ছেদ এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। একইসঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদ বিরোধী সংগ্রাম।

যেহেতু, পাকিস্তান আমলে (১৯৪৭-১৯৭১) পাকিস্তানের বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার কর্তৃক পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশের জনসাধারণের উপর ছিল তীব্র জাতিগত নিপীড়ন। পূর্ববাঙলার বাঙালী জাতির জনসাধারণ ও অন্যান্য জাতির জনসাধারণের উপর ছিল পাকিস্তানের বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকারের তীব্র জাতিগত নিপীড়ন।

সেহেতু, পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশের জাতিসম হের জনসাধারণের তাৎপর্যপূর্ণ সংগ্রাম ছিল পাকিস্তানের ভেতরে জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। বিশেষতঃ স্বাধীনতার অধিকার বা বিচ্ছেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। পূর্ববাঙলার বাঙালী জাতির জনসাধারণের তাৎপর্যপূর্ণ সংগ্রাম ছিল পাকিস্তানের ভেতরে জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। বিশেষ করে স্বাধীনতার অধিকার বা বিচ্ছেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

আসলে পাকিস্তান আমলে পূর্ববাঙলার বাঙালী জাতির জনসাধারণের ছিল পাশাপাশি দুই সংগ্রাম। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। অপর কথায় পূর্ববাঙলায় এই দুই সংগ্রাম ছিল সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম। তবে গণতন্ত্রের সংগ্রাম ছিল সমাজতন্ত্রের সংগ্রামের অধীন।

যেহেতু, পাকিস্তানের মূল কেন্দ্রে কমিউনিস্ট আন্দোলন ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে ছিল অবিশ্বাস্যরকম ভৌগোলিক ব্যবধান। সেহেতু, পাকিস্তান আমলে শেষ পর্যায়ে একাত্তর সালে পূর্ববাঙলার শ্রমিকশ্রেণীর মেহনতী জনগণের সমাজতন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অবধারিতভাবে পরিনত হয় জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে।

তারিখঃ ২০.০৬.২০১০

বুর্জোয়া বাজেটের গুণগত বিপরীতে সমাজতান্ত্রিক বাজেটের রূপরেখা উপস্থিত করুন

সম্প্রতি বাঙলাদেশের ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া সরকার (আওয়ামী লীগ-মহাজোট সরকার) এক বছরের বাজেট ঘোষণা করেছে। শ্রেণীচরিত্রের কারণে বুর্জোয়া শাসক বুর্জোয়া সরকার বুর্জোয়া বাজেট প্রণয়ন করে। বুর্জোয়া বাজেটের পুঁজিবাদী বাজেটের অর্থনৈতিক ভিত্তি ব্যক্তিমালিকানা। বর্তমান বাজেটের মূল কথা প্রধানতঃ শাসকশ্রেণী বুর্জোয়াশ্রেণীর স্বার্থকে প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানতঃ বাঙলাদেশের পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। একইসঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থকে রক্ষা করা।

বাঙলাদেশের অগ্রসর কমিউনিস্টদের কর্তব্য শ্রমিকশ্রেণীর দৃষ্টিভঙ্গির (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী দৃষ্টিভঙ্গি) ভিত্তিতে বর্তমান বাজেটের যথাযথ বিচারম লক সমালোচনা করা। বাঙলাদেশের শ্রমিক কৃষক মেহনতী নর নারীর স্বার্থরক্ষক বাজেটের সমাজতান্ত্রিক বাজেটের রূপরেখা উপস্থিত করা। যাকিনা শ্রেণীচরিত্রের কারণে বাঙলাদেশের শাসক বুর্জোয়াদের বাজেটের গুণগত বিপরীত। শ্রেণীচরিত্রের কারণে কমিউনিস্টরা পুঁজিবাদী দেশে বুর্জোয়া রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক বাজেটের রূপরেখা উপস্থিত করে। সমাজতান্ত্রিক বাজেটের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রথমতঃ রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও যৌথ মালিকানা।

তত্ত্বগত বিচারে, বর্তমান বাজেটের সমালোচনার নামে এই বাজেটকে খানিকটা ঠিকঠাক করে নেয়া বা গণমুখী করে নেয়ার ধ্যান ধারনা হলো সংস্কারবাদী ধ্যান ধারনা। অপরদিকে এই বাজেটের গুণগত বিপরীত শ্রমিক কৃষক মেহনতী জনগণের স্বার্থরক্ষক বাজেটের সমাজতান্ত্রিক বাজেটের রূপরেখা উপস্থিত না করে সমালোচনার নামে ঢালাওভাবে এই বাজেটের সমালোচনা করার ধ্যান ধারনা হলো নৈরাজ্যবাদী ধ্যান ধারনা।

বাঙলাদেশের শ্রমিক কৃষক মেহনতী জনগণের স্বার্থরক্ষক বাজেটের সমাজতান্ত্রিক বাজেটের রূপরেখার প্রথম ও প্রধান কথা ভূমি ও শিল্পে ব্যক্তি মালিকানা উচেছদ করা। আমাদের মতে প্রধানতঃ ভূমি ও শিল্পকে জাতীয়করণ করার কর্মস চীর ভিত্তিতে এবং কৃষিতে ব্যাপক যৌথ উৎপাদনের কর্মস চীর ভিত্তিতে পুঁজিবাদী দেশ ও বুর্জোয়া রাষ্ট্র বাঙলাদেশে শ্রমিক কৃষক মেহনতী জনগণের স্বার্থরক্ষক বাজেটের সমাজতান্ত্রিক বাজেটের রূপরেখা উপস্থিত করা সম্ভব।

অগ্রসর কমিউনিস্টরা, তরুণ কমিউনিস্টরা এগিয়ে আসুন। বুর্জোয়া বাজেটের পুঁজিবাদী বাজেটের গুণগত বিপরীতে সমাজতান্ত্রিক বাজেটের রূপরেখা উপস্থিত করুন। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল ও বাঙলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে একটি সৃজনশীল তত্ত্বগত লাইনের সূচনা করুন।


তারিখঃ ১৯.০৬.২০১০

দেশীয় পুঁজিবাদই ভারত, পাকিস্তান ও বাঙলাদেশের মেহনতী জনগণের প্রধান সমস্যা। মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ প্রধান সমস্যা নয় ।

তত্ত্বগত বিচারে, ধর্মীয় মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ ভারত, পাকিস্তান ও বাঙলাদেশের শ্রমিক কৃষক মেহনতী জনগণের জীবনে প্রধান সমস্যা নয়। বরং দেশীয় পুঁজিবাদই এই তিনটি দেশের মেহনতী জনগণের জীবনের প্রধান সমস্যা।

ভারত, পাকিস্তান ও বাঙলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থা হলো পুঁজিবাদী। এই তিনটি দেশের ব্যাপক জনগণের উপর দেশীয় পুঁজিবাদী শোষণ প্রধান। দেশীয় বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকারের শোষণ নির্যাতন প্রধান। এসকল দেশে মেহনতী জনগণের জীবনে ধর্মীয় মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের তুলনায় দেশীয় পুঁজিবাদ অনেকগুণ বেশী ক্ষতিকর। দেশীয় বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার অনেকগুণ বেশী ক্ষতিকর।

ভারত, পাকিস্তান ও বাঙলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদীদের কোন রাষ্ট্র ও সরকার নেই। ধর্মীয় মৌলবাদ ব্যক্তিমালিকানায় বিশ্বাসী। ধর্মীয় মৌলবাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুঁজিবাদী। ধর্মীয় মৌলবাদ পুঁজিবাদী তবে সেটা পশ্চাদপদ পুঁজিবাদী বা পশ্চাদপদ বুর্জোয়া-পেটি বুর্জোয়া।

সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুঁজিবাদী, একচেটিয়া পুঁজিবাদী। ভারত, পাকিস্তান ও বাঙলাদেশে সাম্রাজ্যবাদের শোষণ মূলতঃ পরোক্ষ ও মূলতঃ অর্থনৈতিক। এই তিনটি দেশে সাম্রাজ্যবাদের কোন রাষ্ট্র ও সরকার নেই। সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় পুঁজিবাদ পরস্পরের সহযোগী। এই তিনটি দেশে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নি পুঁজির পরিমাণ সীমিত। পরাধীন দেশে লগ্নি পুঁজির ক্ষমতা এবং পরোক্ষ সাম্রাজ্যবাদের যুগে স্বাধীন দেশে লগ্নি পুঁজির ক্ষমতা সমান হয়না। সমান হতে পারেনা।

ভারত, পাকিস্তান ও বাঙলাদেশে যতদিন পুঁজিবাদী শোষণ থাকবে ততদিন এসকল দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ কমবেশী ক্রিয়াশীল থাকবে। পৃথিবীর আরও দশটা দেশের মতো এসকল দেশে ভূমি ও শিল্পে ব্যক্তিমালিকানার উচ্ছেদ ছাড়া ও পুঁজিবাদের উচ্ছেদ ছাড়া ধর্মীয় মৌলবাদের উচ্ছেদ ঘটবে না। পৃথিবীর আরও দশটা দেশের মতো এসকল দেশে পুঁজিবাদের উচ্ছেদ ছাড়া সাম্রাজ্যবাদের উচ্ছেদ ঘটবে না।

তারিখঃ ২১.০৬.২০১০