বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১

মেহনতী জনগণের সংবিধান যথাযথ নির্ধারণের প্রশ্নে বাঙলাদেশের কমিউনিস্টদের তত্ত্বগত বিভ্রান্তি

বুর্জোয়া সংবিধানের সংশোধনের প্রশ্নে বাঙলাদেশের শাসক বুর্জোয়ারা এখন বড় সংকটে কিন্তু মেহনতী জনগণের সংবিধান যথাযথ নির্ধারণের প্রশ্নে বাঙলাদেশের কমিউনিস্টরা এখন আরও বড় সংকটে তত্ত্বগত বিভ্রান্তিই কমিউনিস্টদের এই সংকটের পেছনে প্রধান কারণ
বর্তমানকাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কাল সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ শোষণের অবসান ঘটেছে দীর্ঘকাল আগে পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশ মূলতঃ আত্মনির্ভরশীল পুঁজিবাদী দেশ এবং রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন বুর্জোয়া রাষ্ট্র বাঙলাদেশ মূলতঃ আত্মনির্ভরশীল পুঁজিবাদী দেশ এবং রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন বুর্জোয়া রাষ্ট্র বাঙলাদেশের পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর নয়
কিন্তু তারপরও স্বাধীন বুর্জোয়া বাঙলাদেশে কমিউনিস্টদের একটি বড় অংশ বাহাত্তরের সংবিধানের (বুর্জোয়া-পেটিবুর্জোয়া সংবিধান) মূলনীতি সমর্থন করে বাঙলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে এই ধারাটি অতিশয় ক্ষতিকর সংঙ্কারবাদী ধারা এসকল কমিউনিস্ট মার্কসবাদ-লেনিনবাদের প্রতি আন্তরিকভাবে আস্থাবান নন
স্বাধীন পুঁজিবাদী বাঙলাদেশে কমিউনিস্টদের অপর একটি বড় অংশ জনগণের গণতান্ত্রিক সংবিধান (নয়া গণতান্ত্রিক অথবা জনগণতান্ত্রিক সংবিধান) প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে বাঙলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে এই ধারাটি অপরিমেয় ক্ষতিকর নৈরাজ্যবাদী ধারা এসকল কমিউনিস্ট মার্কসবাদ-লেনিনবাদের প্রতি সচেতনভাবে আস্থাবান নয়
বাঙলাদেশের কমিউনিস্টদের উপরোক্ত তত্ত্বগত বিভ্রান্তির পেছনে লেনিন উত্তর রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পশ্চাদপদ তত্ত্বগত অবস্থান বিশেষভাবে দায়ী উপরোক্ত দুই পার্টি সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ক লেনিনের তত্ত্বকে বিকৃত করেছে দুই পার্টি সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ শোষণ পরোক্ষ শোষণের মধ্যকার পার্থক্যকে (সরাসরি উপনিবেশিক রাষ্ট্র বিষয়ক) আড়াল করেছে এরা পৃথিবীর দেশে দেশে পুঁজিবাদের বিকাশের অনিবার্যতাকে স্বীকার করেনি
বাঙলাদেশের অগ্রসর কমিউনিস্টদের কর্তব্য লেনিন উত্তর রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পশ্চাদপদ তত্ত্বগত লাইনকে প্রত্যাখান করা মার্কসবাদ-লেনিনবাদের পতাকাকে সমুন্নত রাখা মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের তত্ত্বকে সৃজনশীলভাবে বিকশিত করা
অগ্রসর কমিউনিস্টদের কর্তব্য স্বাধীন বুর্জোয়া রাষ্ট্র বাঙলাদেশে বিদ্যমান বুর্জোয়া সংবিধানের গুণগত বিপরীত সমাজতান্ত্রিক সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সংগঠিত করা বাঙলাদেশে পুঁজিবাদের উচ্ছেদ এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম গড়ে তোলা বুর্জোয়া বাঙলাদেশে সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম ছাড়া বুর্জোয়াদের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে কমিউনিস্টদের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবেনা বুর্জোয়া ভারতে সমাজতান্ত্রিক সংগ্রাম ছাড়া বুর্জোয়াদের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে কমিউনিস্টদের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবেনা
তারিখঃ ২৯.০৬.২০১১                                                                  আইউব রেজা চৌধুরী

সোমবার, ২৭ জুন, ২০১১

তেল-গ্যাস কয়লা সম্পদ রক্ষার সংগ্রামকে শক্তিশালী করুন। আনু মুহাম্মদের বিরুদ্ধে সরকারের কুৎসার জবাব দিন।

বাঙলাদেশে তেল-গ্যাস কয়লা সম্পদ রক্ষার সংগ্রাম মূলতঃ প্রগতিশীল ন্যায়সঙ্গত এই সংগ্রাম ব্যাপক জনগণের মেহনতী জনগণের জাতীয় সম্পদ রক্ষার সংগ্রাম জাতীয় সম্পদ রক্ষার চলমান সংগ্রামের মূল কথা জনগণের সম্পদকে জনগণের শ্রেণীস্বার্থে কাজে লাগাতে হবে এবং তাকে জনগণের জীবন যাত্রার মান বাড়াতে ব্যবহার করতে হবে

তত্ত্বগত বিচারে তেল-গ্যাস কয়লা সম্পদ রক্ষার চলমান সংগ্রাম সাবজেকটিভলি প্রধানতঃ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কিন্তু অবজেকটিভলি এই সংগ্রাম প্রধানতঃ দেশীয় পুঁজিবাদ বিরোধী সরকার বিরোধী কারণ বর্তমানকাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কাল বাঙলাদেশ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন একটি বুর্জোয়া রাষ্ট্র স্বাধীন বুর্জোয়া রাষ্ট্রে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম প্রধান নয়

সঙ্গত কারণে শুরু থেকে তেল-গ্যাস কয়লা সম্পদ রক্ষার সংগ্রাম ক্ষমতাসীন সরকার (বিএনপি সরকার অথবা আওয়ামী লীগ সরকার) বিরোধী ফলে জাতীয় সম্পদ রক্ষার এই সংগ্রামের উপর সরকারী নির্যাতন বিশেষভাবে নেমে আসে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় তেল-গ্যাস কয়লা সম্পদ রক্ষার জাতীয় কমিটির মিছিলে পুলিশের লাঠির আঘাতে এই সংগ্রামের প্রধান নেতা অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন সম্প্রতি জাতীয় কমিটির এক মিছিলে পুলিশের লাঠির আঘাতে অন্যতম নেতা অধ্যাপিকা রাহনুমা আহমেদ আহন হন

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেল উত্তোলন কোম্পানী বাঙলাদেশের সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত গভীর সমুদ্রে তেল উত্তোলনে কুপ খনন বিষয়ক একটি অসম দুর্ণীতিযুক্ত চুক্তির প্রতিবাদে আনু মুহাম্মদ জাতীয় কমিটি ঢাকায় জুলাই অর্ধ দিবস হরতাল আহ্বান করেন সঙ্গে সঙ্গে হরতাল আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে আনু মুহাম্মদের বিরুদ্ধে সরকারী মহল থেকে কুৎসা শুরু হয় বলার অপেক্ষা রাখেনা জুলাইয়ের হরতাল পালনের মধ্য দিয়েই এই কুৎসার উপযুক্ত জবাব দেয়া সম্ভব

বাঙলাদেশে জাতীয় সম্পদ রক্ষার চলমান সংগ্রাম প্রধানতঃ অর্থনৈতিক সংগ্রাম এই সংগ্রাম যদিও প্রধানতঃ সরকার বিরোধী সংগ্রাম তবে তা সরকারের অর্থনৈতিক শোষণ বিরোধী সংগ্রাম

সঙ্গত কারণে বাঙলাদেশে জাতীয় সম্পদ রক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংগ্রামের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দাবী হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারী সংস্থাগুলিকেই তেল গ্যাস কয়লা উত্তোলন দেশে এগুলির যথাযথ ব্যবহারের জন্য দায়িত্ব দিতে হবে

বাঙলাদেশে জাতীয় সম্পদ রক্ষার চলমান সংগ্রাম জয়লাভ করবেই তবে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ শিক্ষা দেয় সঠিক অগ্রসর রাজনৈতিক সংগ্রাম ছাড়া একটি দেশের কোন অর্থনৈতিক সংগ্রাম জয়লাভ করতে পারেনা তাই বাঙলাদেশে চলমান সঠিক অগ্রসর রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে তেল-গ্যাস কয়লা সম্পদ রক্ষার সংগ্রাম যথোপযুক্তভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন সঙ্গত কারণে প্রথমোক্ত সংগ্রাম কর্ত্তৃক দ্বিতীয়োক্ত সংগ্রাম পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন

বাঙলাদেশে চলমান সঠিক অগ্রসর রাজনৈতিক সংগ্রাম দেশীয় পুঁজিবাদ উচ্ছে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া সরকার (সকল বুর্জোয়া সরকারই) বিরোধী সংগ্রাম বাঙলাদেশের শ্রমিকশ্রেণীর মেহনতী জনগণের প্রধান সংগ্রাম

তারিখঃ ২১.০৬.২০১১                                                                                       আইউব রেজা চৌধুরী

মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১১

কোন পথে বাঙলাদেশে নারী নির্যাতনের অবসান ঘটতে পারে

বাঙলাদেশে ধনী দরিদ্র সকল নারীই সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে নির্যাতিত। বিশেষ করে দরিদ্র নারী শ্রমজীবী নারী অধিকতর নির্যাতিত। এরা হলেন রুমানা, হেনা এবং আরও লক্ষ লক্ষ অসহায় নারী। সময়ের দাবী নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সমাজের অগ্রসর, আন্তরিক ও সাহসী নারী পুরুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। 


বাঙলাদেশ একটি পুঁজিবাদী দেশ। বাঙলাদেশের সমাজ পুঁজিবাদী সমাজ! বাঙলাদেশের সমাজে পুরুষরা বেশীরভাগ ধনসমপত্তির মালিক। যেখানে পুঁজিবাদী শোষণ থাকে ও মজুরী দাসত্ব থাকে, যেখানে ধনসম্পদে ও ক্ষমতায়নে পুরুষের প্রাধান্য থাকে সেখানে নারী নির্যাতন অনিবার্য। শুধু তাই নয় গণিকাবৃত্তিও অনিবার্য। 



বাঙলাদেশের সমাজে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে নারীর অধিকার সীমিত। অপরদিকে বাঙলাদেশের সমাজে পুরুষরা বিশেষ রকম অধিকারপ্রাপ্ত। যেখানে পুঁজিবাদ, পুঁজিপতি, বণিক, সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদ থাকে সেখানে পুরুষের সঙ্গে নারীর সমতা প্রতিষ্ঠা হতে পারেনা। এমনকি আইনের ক্ষেত্রেও তা হতে পারেনা। নামে মাত্র আইনের সমতার মানে জীবনের ক্ষেত্রে সমতা নয়। বাস্তব খুব কঠিন।



বাঙলাদেশের সমাজে নারী নির্যাতনের অবসান বা নারী মুক্তির মূল পথ বৃহৎ ভূমি, শিল্প কারখানা ও আবাসনে ব্যক্তি মালিকানার উচ্ছেদ এবং এগুলির রাষ্ট্রীয়করণ। ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা বাণিজ্য ও খাদ্য ব্যবসা জাতীয়করণ। সমাজে বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয়করণ। সারাদেশে কৃষিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠা এবং যৌথ উৎপাদন প্রবর্তন।



বাঙলাদেশের সমাজে নারী নির্যাতনের অবসান বা নারী মুক্তির মূল পথ সকল নারী ও পুরুষকে চাকুরী প্রদান এবং অফিসার ও শ্রমিকের বেতন ক্রমশঃ সমান সমান করা। শিল্প ও কৃষিতে ব্যাপক নারী ও পুরুষকে যৌথ উৎপাদনে টেনে আনা। সারাদেশে সামাজিক ভোজনালয়, কিন্ডারগার্টেন ও শিশুলালনাগার প্রতিষ্ঠা করা এবং নারীকে তার সাধারণ সাংসারিক বৃত্ত থেকে বাহিরে টেনে আনা।



পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ভিত্তি শোষণমূলক ব্যক্তিগত মালিকানা। পুরুষতন্ত্র পুঁজিবাদের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। পুরুষতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছে সমাজে ধনসম্পদে ও ক্ষমতায়নে পুরুষের প্রাধান্য, দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলতা থেকে।



সঙ্গত কারণে বিপ্লবী শ্রেণীসংগ্রাম ছাড়া বাঙলাদেশে নারী নির্যাতনের অবসান ঘটতে পারেনা। বাঙলাদেশে পুঁজিবাদ, পুরুষতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদ উচ্ছেদ ছাড়া নারী নির্যাতনের অবসান বা নারী মুক্তি সম্ভব নয়।



এক কথায় বাঙলাদেশে নারী নির্যাতনের অবসান ও নারী মুক্তির মূল পথ পুঁজিবাদের উচ্ছেদ ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম গড়ে তোলা। বাঙলাদেশে বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার উচ্ছেদ এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সংগঠিত করা। সমাজতন্ত্রই নারী মুক্তির মূল পথ।





১১.০৬.২০১১                                    আইউব রেজা চৌধুরী

মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০১১

বুর্জোয়া সংবিধানের সংশোধন? নাকি সমাজতান্ত্রিক সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়ন?

যেহেতু, বাঙলাদেশ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন একটি বুর্জোয়া রাষ্ট্র; বাঙলাদেশের শাসকশ্রেণী বুর্জোয়াশ্রেণী এবং সরকার বুর্জোয়া সরকার। বাঙলাদেশে সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থা পুঁজিবাদী এবং বাঙলাদেশের সমাজ পুঁজিবাদী সমাজ। বাঙলাদেশের সমাজের বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক পরিবর্তন প্রধানতঃ পরিসমাপ্ত।

সেহেতু, বাঙলাদেশে অগ্রসর কমিউনিস্টদের কর্তব্য বিদ্যমান বুর্জোয়া সংবিধানের গুণগত বিপরীত সমাজতান্ত্রিক সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়ন করা। কোন কারণেই বিদ্যমান বুর্জোয়া সংবিধান সংশোধন করা অথবা বাহাত্তরের বুর্জোয়া সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা বাঙলাদেশে অগ্রসর কমিউনিস্টদের কর্তব্য হতে পারে না।

শ্রেণীচরিত্রের দিক থেকে বুর্জোয়া সংবিধান মূলতঃ শোষণমূলক ব্যক্তিমালিকানা ভিত্তিক। বুর্জোয়া সংবিধান মূলতঃ বৃহৎ কৃষিভূমি, শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা ও আবাসনে ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠার আইনগত দলিল। বুর্জোয়া সংবিধান বস্তুতঃ বুর্জোয়াশ্রেণীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক শ্রেণীস্বার্থ রক্ষা করে। বুর্জোয়া সংবিধান বুর্জোয়াশ্রেণীর একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক দলিল।

শ্রেণীচরিত্রের দিক থেকে সমাজতান্ত্রিক সংবিধান মূলতঃ শোষণমুক্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানা, যৌথ মালিকানা ও যৌথ উৎপাদন ভিত্তিক। সমাজতান্ত্রিক সংবিধান বৃহৎ কৃষিভূমি, শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা ও আবাসন রাষ্ট্রীয়করণ বা জাতীয়করণ করার আইনগত দলিল। সমাজতান্ত্রিক সংবিধান মূলতঃ শ্রমিকশ্রেণী ও গরীব কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে। সমাজতান্ত্রিক সংবিধান শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক দলিল।

তত্ত্বগত বিচারে, বাঙলাদেশে বুর্জোয়া সংবিধানের সংশোধনের পথ কমিউনিস্ট আন্দোলনে বস্তুতঃ সংস্কারবাদী পথ বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তির পথ। বাঙলাদেশে বুর্জোয়া সংবিধানের গুণগত বিপরীত নয়া গণতান্ত্রিক সংবিধান বা জনগণতান্ত্রিক সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়নের পথ। বস্তুতঃ কমিউনিস্ট আন্দোলনে নৈরাজ্যবাদী পথ গণবিচ্ছিন্নতার পথ।

বাঙলাদেশের অগ্রসর কমিউনিস্টদের কর্তব্য বুর্জোয়া সংবিধানের গুণগত বিপরীত সমাজতান্ত্রিক সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়ন করা। বাঙলাদেশে বিদ্যমান বুর্জোয়া সংবিধানের গুণগত বিপরীত সমাজতান্ত্রিক সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সংগঠিত করা। বাঙলাদেশে প্রধানতঃ দেশীয় পুঁজিবাদ বিরোধী এবং বুর্জোয়া রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী সংগ্রাম গড়ে তোলা। পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদ বিরোধী সংগ্রাম সংগঠিত করা।


তারিখঃ ২৯.০৪.২০১১                                       আইউব রেজা চৌধুরী